Friday, September 11, 2026

পাকিস্তানে পড়াশোনা অনিশ্চিত আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের, আদালতের স্থগিতাদেশে সাময়িক স্বস্তি


ছবিঃ পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত খাইবার গার্লস মেডিকেল কলেজের বাইরের দৃশ্য (সংগৃহীত । আল জাজিরা /বাতুল)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

পাকিস্তানে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে অধ্যয়নরত দুই শতাধিক আফগান শিক্ষার্থীর পড়াশোনা হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (পিএমডিসি) নির্দেশে এসব শিক্ষার্থীকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হলে শুরু হয় তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। তবে শুক্রবার লাহোর হাইকোর্ট পিএমডিসির ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করায় শিক্ষার্থীরা আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর পিএমডিসি পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয়, সেখানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে চলতি শিক্ষাবর্ষে আফগান নাগরিকদের নতুন করে ভর্তি, স্থানান্তর বা অন্য প্রতিষ্ঠানে মাইগ্রেশনের সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

পিএমডিসির তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে বর্তমানে দুই শতাধিক আফগান শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। নির্দেশের প্রভাব পড়েছে তাদের বড় একটি অংশের ওপর।

পিএমডিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়েকজন আফগান শিক্ষার্থী লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুক্রবার বিচারপতি খালিদ ইসহাকের আদালতে এসব আবেদনের শুনানি হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনজীবী আসাদ জামাল যুক্তি দেন, পিএমডিসি তার নিজস্ব আইনি এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছে। কোনো ধরনের শুনানির সুযোগ না দিয়েই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া তাদের শিক্ষা, জীবন ও মর্যাদার অধিকারের পরিপন্থী বলেও আদালতে দাবি করা হয়।

শুনানিতে আদালত জানতে পারে, কয়েকজন শিক্ষার্থী পাকিস্তানে চার বছর ধরে পড়াশোনা করছেন। এতদিন তাদের কোনো সমস্যা না থাকলেও হঠাৎ নীতির পরিবর্তনের কারণে এখন তাদের চলে যেতে বলা হচ্ছে।

বিচারপতি খালিদ ইসহাক মন্তব্য করেন, ‘গতকাল পর্যন্ত তারা ছিল সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, আজ নীতি পরিবর্তন হয়েছে।’

আদালত আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এর মধ্যে পিএমডিসি, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপাচার্যদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আইনজীবী আসাদ জামাল জানান, আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন, ক্লাস ও হাসপাতালের কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন এবং হোস্টেলে অবস্থান করতে পারবেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো জোরপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

তবে আদালতের এই সাময়িক স্বস্তির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।

পিএমডিসি তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে বলেছে, পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলের সঙ্গে নিবন্ধিত থাকা বাধ্যতামূলক। সংস্থাটির দাবি, বর্তমানে মাত্র ২২ জন আফগান শিক্ষার্থী পিএমডিসিতে নিবন্ধিত যাদের মধ্যে ১৪ জন ইতোমধ্যে স্নাতক হয়েছেন এবং আটজন স্নাতকের পথে।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা পাকিস্তানে আসার সময় পিএমডিসিতে আলাদা নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে কোনো সরকারি সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের অবহিত করেনি।

আলিশবার ভাষায়, দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে তাদের জীবন যেন একটি খেলনার মতো হয়ে গেছে। কোনো অপরাধ না করেও কেন তাদের পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ দেওয়া হবে না এই প্রশ্নই এখন তার মতো শত শত শিক্ষার্থীর সামনে। 

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন