- ২৪ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক:
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গত ১৩০ দিনে হামের উপসর্গে মোট ৭১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে পরীক্ষায় হামে আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত হওয়া মৃতের সংখ্যা ৯৫। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রাণ হারানোদের প্রায় সবাই শিশু।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সুনামগঞ্জ এবং অন্যজন গাইবান্ধার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মোট ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগ, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১০৯ জন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯২ জন, ময়মনসিংহে ৬৯ জন, চট্টগ্রামে ৬৬ জন, বরিশালে ৬২ জন, খুলনায় ৩১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে অধিদপ্তর।
একই সময়ে দেশে নতুন করে ১ হাজার ৪১ জনের শরীরে হাম অথবা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১৬৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৩০ দিনে দেশে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২০৭ জনের শরীরে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ সময় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১৮৮ জন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। আট বিভাগে মোট ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৫টি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ বলে দাবি করছে সংস্থাটি।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করলেই হবে না; নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের দুই ডোজ টিকার আওতায় আনা না গেলে সংক্রমণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে শহর ও গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জ্বর নিয়ে কোনো শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলে প্রথমে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করা উচিত। ডেঙ্গু নেগেটিভ হলে হামের সম্ভাবনা বিবেচনায় তাকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। এতে সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত হলে হামে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশেই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের যে সাফল্য ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় সেই অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে। তাই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।