- ২৩ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘদিনের আলোচনার পর বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি খাতে ঐতিহাসিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। বুধবার (২২ জুলাই) স্বাক্ষরিত এ চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পথ উন্মুক্ত হলো। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে দেশটিকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার (Uranium Enrichment) সুযোগও দেওয়া হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও পারমাণবিক বিস্তার নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ওয়াশিংটনে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি আইনের আওতায় সম্পাদিত একটি "১২৩ এগ্রিমেন্ট", যা দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি সহযোগিতার আইনি ভিত্তি তৈরি করবে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন কংগ্রেসে ৯০ দিনের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, এই চুক্তি বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের মানদণ্ডকে শক্তিশালী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের বহুমুখীকরণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউসসহ কয়েকটি কোম্পানি সৌদি আরবে উন্নত AP1000 রিঅ্যাক্টর নির্মাণে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তাদের অভিযোগ, এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা বা Additional Protocol অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই চুক্তি নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। অতীতে সৌদি নেতৃত্ব একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছিল, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তবে তারাও একই পথে হাঁটতে বাধ্য হতে পারে। ফলে নতুন এই চুক্তি আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এই সমঝোতা কেবল জ্বালানি সহযোগিতাই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ। সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।