- ০৬ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো প্রয়োজন বা যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। এই মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার একটি খোলা চিঠিতে পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনার আহ্বান জানান এবং যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এখন আর অপেক্ষা করে দেখা যায় না। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
তবে পুতিন সেই চিঠিকে “অভদ্র” বলে মন্তব্য করেন এবং বৈঠকের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, শান্তি আলোচনা আগে হওয়া উচিত, তারপরই কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা সরাসরি বৈঠক বিবেচনা করা যেতে পারে।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, “আমি এখন কোনো মুখোমুখি বৈঠকের প্রয়োজন দেখি না।” তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনীয় পক্ষ কেবল সাময়িকভাবে যুদ্ধ থামিয়ে নিজেদের পুনর্গঠনের সুযোগ নিতে চায়।
পুতিন আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা ছাড়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না এবং রাশিয়ার নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে।
অন্যদিকে জেলেনস্কি পুতিনের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাশিয়া আবারও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে। তার মতে, অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এই অবস্থানকে হতাশাজনক হিসেবে দেখবেন।
দুই দেশের মধ্যে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো অবৈধ পণ্য পরিবহন ও সামরিক সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অন্যদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিয়েভের বাইরে একটি দুগ্ধ কারখানায় হামলায় কয়েকজন নিহত হন এবং খেরসন অঞ্চলে একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এর পাশাপাশি কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগর এলাকায় ড্রোন ও জাহাজ সংক্রান্ত একাধিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সংঘাত অব্যাহত থাকায় মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।