- ২১ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের কাবিননামা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন নথির তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে ঢাকার মগবাজারের একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায়। ভিডিওগুলো প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শুরুতে তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই জানান, ভিডিওতে থাকা মরিয়ম খাতুন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী।
তবে এই ব্যাখ্যার পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে তাঁদের কথিত বিয়ের কাবিননামা। গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কাবিননামা নিবন্ধনকারী কাজী মাওলানা বিএএম বাকী বিল্লাহের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
কাজীর দাবি, বিয়ে কোথায় বা কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ ধারণা নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার গভীর রাতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানানো হয় যে, ঢাকায় বিয়ে হয়েছে এবং কাবিননামা নিবন্ধনের দায়িত্ব তাঁকে নিতে হবে। পরে ফোনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি কাবিননামা প্রস্তুত করেন।
তিনি আরও জানান, কনের বাবা ফোনে বিয়ের বিষয়ে সম্মতি দেন। পরদিন সকালে কনে ও তাঁর অভিভাবক তাঁর কার্যালয়ে এসে প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে ১৭ জুনকে বিয়ের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করার নির্দেশনাও তাঁকে ফোনেই দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে কাজীর বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে তিনি বলছেন, বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করে তাঁকে জানানো হয়েছে; অন্যদিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেই পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আর মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি যেন কোনো ঝামেলায় না জড়াই,”—এরপরই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে ভিডিও প্রকাশের পর পৃথক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, পারিবারিকভাবে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতেও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করেন। ভিডিওতে তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলে তিনি মাথা নেড়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায়।
এরই মধ্যে বিয়ের কাবিননামা ও অন্যান্য নথির তথ্য নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কাবিননামায় মরিয়ম খাতুনের জন্মতারিখ ২২ মে ২০০৮ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২২ জুনের একটি বায়োডাটায় গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সুপারিশ রয়েছে, যেখানে মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—যদি ১৭ জুন বিয়ে হয়ে থাকে, তাহলে পাঁচ দিন পরের নথিতে তাঁকে অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করা হলো কেন? এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে বিয়ে, কাবিননামা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোর আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।