- ০৬ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত অস্থির যুদ্ধবিরতি আবারও বড় ধরনের চাপে পড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করেছে, যেগুলো হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, এসব ড্রোন “আঞ্চলিক সমুদ্র পরিবহন নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি” তৈরি করেছিল।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে সেন্টকম দাবি করে। তাদের ভাষ্য, ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে স্থানীয় ও ইরানি গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সেন্টকম জানায়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী উৎক্ষেপিত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।
এর আগে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে দাবি করে, এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলের ফল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এটি ছিল “পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত হামলা”।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা চলমান যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। এর আগে দুই দেশ একাধিক দফায় হামলা–পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এর মধ্যেই একটি চমকপ্রদ কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ইরানের জাতীয় দলের জন্য ভিসা অনুমোদন দিয়েছে। যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের দলকে স্বাগত জানানোর এই সিদ্ধান্তকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় অঞ্চলটিতে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।