Thursday, April 23, 2026

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, উত্তরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট


ছবিঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বন্ধ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। দিনাজপুর

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আবারও সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তিনটি ইউনিটই অচল হয়ে পড়ে এবং পুরো কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম থেমে যায়।

কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে যাওয়ায় বয়লারের পাইপ ফেটে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, মেরামত কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।

এর আগে থেকেই কেন্দ্রটির ২ নম্বর (১২৫ মেগাওয়াট) এবং ৩ নম্বর (২৭৫ মেগাওয়াট) ইউনিট বন্ধ ছিল। ফলে নতুন করে ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কেন্দ্রটির সব ইউনিটই অচল অবস্থায় রয়েছে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পাশে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। শুরুতে দুটি ইউনিটের মাধ্যমে ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন শুরু হয়। পরে ২০১৭ সালে আরও একটি ইউনিট যুক্ত হওয়ায় মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াটে। তবে নানা কারিগরি জটিলতার কারণে কেন্দ্রটি কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। খনির ইয়ার্ডে কয়লা সংরক্ষণের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নতুন করে কয়লা উত্তোলন অব্যাহত রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খনি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৭০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে, অথচ সংরক্ষণ ক্ষমতা ২ লাখ ২০ হাজার টন হলেও মজুত বেড়ে ৫ লাখ টনের বেশি হয়ে গেছে।

বিসিএমসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, সংরক্ষণের জায়গা সংকট দেখা দেওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে।

অন্যদিকে, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও উত্তরাঞ্চলের চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। তীব্র গরমের মধ্যে ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বাড়ছে লোডশেডিং এবং ভোগান্তি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করে কেন্দ্রটি চালু না করা গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন