Thursday, April 23, 2026

গাজা শহরে ইঁদুরের আতঙ্ক: যুদ্ধোত্তর বাস্তবতায় মানবিক সংকট আরও গভীর


ছবিঃ সামাহ আল-দাবলা তার মেয়ে মায়াসিনকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, যাকে একটি ইঁদুর কামড়েছিল (সংগৃহীত । আল জাজিরা । আবদেলহাকিম আবু রিয়াশ/আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

গাজা উপত্যকার গাজা শহরে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে বসবাসরত সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন এক আতঙ্ক যুক্ত হয়েছে—ইঁদুরের উপদ্রব। ধ্বংসস্তূপের পাশে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করা বহু পরিবার প্রতিনিয়ত এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

গাজার বাসিন্দা সামাহ আল-দাবলা তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে একটি অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। যুদ্ধের আগে কখনও যে ভয় তাদের জীবনে ছিল না, এখন সেটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা ইঁদুরের উপদ্রব তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা তৈরি করছে।

সম্প্রতি গভীর রাতে সামাহর তিন বছরের মেয়ে হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে। পরে দেখা যায়, একটি বড় ইঁদুর তার হাতে কামড় দিয়েছে, যার ফলে রক্তপাত হয়। স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও ঘটনাটির ভয় এখনো তাকে তাড়া করে ফিরছে।

সামাহ জানান, প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেও ইঁদুরের আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করলেও তা ইঁদুরের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু খাবার নয়, কাপড়চোপড় ও তাঁবুর বিভিন্ন অংশও ইঁদুরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গাজার অনেক পরিবার বর্তমানে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে তাঁবুতে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধের কারণে অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ইঁদুর ও অন্যান্য রোগবাহী প্রাণীর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জমে থাকা আবর্জনা, ভেঙে পড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মৃতদেহ ইঁদুরের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে কামড়ের ঘটনা বাড়ছে, যা বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে।

একজন স্থানীয় চিকিৎসক জানান, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক, কারণ তারা অনেক সময় কামড় অনুভব করতে পারেন না এবং ক্ষত গুরুতর আকার ধারণ করে।

এদিকে, প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ইঁদুরনাশক আমদানিতে বাধা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাও সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। ধ্বংসস্তূপ সরানো, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কার্যকর কীটনাশক সরবরাহ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

বর্তমানে গাজার হাজারো পরিবার শুধু যুদ্ধের ক্ষতই নয়, বরং পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকির এক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন