- ০৮ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার ১০০ দিন পার হলেও ইরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা এখনও পুরোপুরি নির্ধারণ করা যায়নি। তবে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি থেকে পাওয়া নতুন চিত্রে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ইঙ্গিত মিলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্যাটেলাইট ইমেজ সংস্থা প্ল্যানেট ল্যাবসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান যুদ্ধাঞ্চলের ছবি প্রকাশে কিছু বিধিনিষেধের মুখোমুখি হয়েছে বলে জানা যায়। ওয়াশিংটনের অনুরোধে কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে ছবি প্রকাশ সীমিত করা হলেও আগের সংগৃহীত উপাত্তে ভয়াবহ ধ্বংসের চিত্র উঠে এসেছে।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা ও ফর্দো এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি সিরি দ্বীপ ও খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে।
ইরানের বান্দার আব্বাস বন্দর ও ফাতাহ এয়ারবেসে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে, যেখানে গুদাম, জেটি এবং সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহর যেমন নাকুরা, বিন্ত জবাইল, রাশাফ এবং কোজা এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, কয়েক শতাধিক ভবন ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব এলাকায় স্থল ও বিমান হামলার প্রভাবে আবাসিক অঞ্চল, ধর্মীয় স্থাপনা এবং অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাতারের আল-উদেইদ, কুয়েতের আলী আল-সালেম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসসহ একাধিক সামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট সদর দপ্তরেও বিভিন্ন কাঠামোগত ক্ষতির ইঙ্গিত মিলেছে স্যাটেলাইট চিত্রে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ কেবল সামরিক সংঘাত নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে ব্যাপকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে একযোগে সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় আঘাতের ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
তারা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।