- ০৭ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, সামরিক হামলার হুমকি এবং পরক্ষণেই আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘নাটকীয় কূটনীতির পুনরাবৃত্তি’ করছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দেয়, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই আলোচনার পরিবেশ তৈরির কথা বলে। তার ভাষায়, ভয়ভীতি, অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যকে কূটনৈতিক চাপ হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল বহু আগেই কার্যকারিতা হারিয়েছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বাস্তবতা স্বীকার করে পূর্বের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের একটি সামরিক অভিযান তিনি স্থগিত করেছেন। তার ভাষ্য, তেহরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কাঠামো তৈরি হওয়ায় হামলার প্রয়োজন হয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিদ্যমান সংকটেরও অবসান ঘটবে।
তবে ইরান ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনার অগ্রগতি থাকলেও সামরিক চাপকে সমঝোতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তেহরানের দাবি, দুই দেশ নৌপথের বিভিন্ন রুট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সংঘাতের পর ইরান কার্যত এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে এবং এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার দাবি করে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে একাধিক হামলা এবং হরমুজে চলাচল সীমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। তার দাবি, যুদ্ধের অবসান ঘটলে জ্বালানির দামও কমে আসবে।
তিনি আরও জানান, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে এবং আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তিনি ইতিবাচক।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে জানিয়েছেন, দেশটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। তাদের মতে, সামরিক চাপের মুখে ইরান কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না; বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্ভাব্য সমঝোতা আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার ফলাফল শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।