- ০৭ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রীদের আবাসিক ‘জুলাই ৩৬’ হলে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গোপনে সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি তুলে তা তার পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সামনে আসার পর আবাসিক হলজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়, বরং আবাসিক জীবনের নিরাপত্তাবোধকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতের দিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলের বিভিন্ন ছাত্রীর অজান্তে ছবি তুলে সেগুলো বিদেশে অবস্থানরত তার এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জন ছাত্রীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন। অভিযোগের পক্ষে কিছু স্ক্রিনশট ও অন্যান্য তথ্য নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করেছেন বলেও দাবি করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি ঘটার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে ওই ব্যক্তি বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত কথোপকথনের কিছু তথ্য অন্যদের কাছে পাঠাতে শুরু করলে পুরো ঘটনা সামনে আসে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেবল সাধারণ ছবি নয়, আবাসিক কক্ষে অবস্থানরত কিংবা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা, ওড়না ছাড়া কিংবা ব্যক্তিগত পরিসরে থাকা একাধিক ছাত্রীর ছবিও তাদের অনুমতি ছাড়াই ধারণ করা হয়েছে। এমনকি পর্দানশীল শিক্ষার্থীদের ছবিও গোপনে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আবাসিক হলকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হিসেবে মনে করেন। সেখানে ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করে অন্যের কাছে পাঠানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে প্রত্যেক আবাসিক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হলের ভেতরে একজন শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবেই নিজের মতো চলাফেরা করেন। সেই পরিবেশে গোপনে ছবি তুলে বাইরে পাঠানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া উচিত।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে সহপাঠীরা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, তিনি জানিয়েছেন যে ছবি পাঠানো তার ভুল ছিল এবং বিষয়টির পরিণতি সম্পর্কে তিনি তখন গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেননি। যদিও এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির কিছু অডিও বার্তাও শিক্ষার্থীদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী একাধিকবার বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি তাকে পাঠিয়েছেন এবং তিনি এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি লিখিতভাবে পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠীরা।