- ০৭ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দলীয় প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব, বড় অঙ্কের প্রচারণা ব্যয় এবং প্রভাবশালী লবিগুলোর বিরোধিতা পেরিয়ে তার এই জয়কে মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে এল-সায়েদের সঙ্গে লড়াই করেন চারবারের কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেনস। ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে স্টিভেনস ধীরে ধীরে ব্যবধান কমিয়ে আনলেও শেষ পর্যন্ত খুব অল্প ব্যবধানে জয় ধরে রাখেন এল-সায়েদ।
ডেট্রয়েটে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এল-সায়েদ বলেন, ভোট গণনা শেষ হতে সময় লাগায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিজয় ঘোষণা করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তিনি তার প্রচারণার চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন।
তার দাবি, তার প্রচারণার বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে বিভিন্ন বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপ্যাক)-এর প্রচারণার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এল-সায়েদ বলেন, বিপুল অর্থ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তার প্রচারণা মানুষের সমর্থন পেয়েছে। তার মতে, এই জয় প্রমাণ করে সাধারণ ভোটাররা প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন নেতৃত্বকে বেছে নিতে প্রস্তুত।
মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার, সাবেক সিনেটর ডেবি স্ট্যাবেনো, সিনেট ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারসহ দলীয় প্রভাবশালী নেতারা স্টিভেনসকে সমর্থন করেছিলেন। তারপরও এল-সায়েদের জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
জয়ের পর এল-সায়েদকে নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন। তবে এল-সায়েদের সমর্থকদের দাবি, এই ফলাফল দেখিয়েছে যে শুধু অর্থ, পরিচিত মুখ বা দলীয় সমর্থন দিয়ে সব সময় নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করা যায় না।
মিশিগান রাজ্যের আইনপ্রণেতা আলাবাস ফারহাট বলেন, এল-সায়েদের জয় প্রমাণ করেছে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয়গুলো ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারণার মূল বার্তা ছিল—রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো, সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ ফেরানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। তার প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে নির্বাচনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুও বড় ভূমিকা রেখেছে। এল-সায়েদ গাজা যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে আসছেন। তার সমর্থকদের একটি অংশ মনে করেন, মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ এখন বিদেশে সামরিক ব্যয়ের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে বেশি গুরুত্ব দিতে চায়।
এদিকে এআইপ্যাক এল-সায়েদের জয়কে খাটো করে দেখিয়েছে এবং জানিয়েছে, সাধারণ নির্বাচনে তাকে পরাজিত করতে তারা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। সংগঠনটির দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের পক্ষে থাকা প্রার্থীদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
মিশিগানে এল-সায়েদের জয় শুধু সিনেট নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। প্রগতিশীল ধারার রাজনীতিকরা বলছেন, ভোটাররা এখন প্রচলিত রাজনীতির বাইরে পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছেন।
আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন আবদুল এল-সায়েদ। মিশিগান একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং স্টেট’ হওয়ায় এই আসনের লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।