Thursday, April 23, 2026

তামিলনাড়ু নির্বাচনে উত্তাপ: মুখ্যমন্ত্রী হতে চান অভিনেতা বিজয়


ছবিঃ অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বিজয় ৩০ মার্চ ২০২৬ সালে ভারতের চেন্নাই শহরে তামিলনাড়ু রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান (সংগৃহীত । আল জাজিরা । রিয়া মারিয়াম আর/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN


ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। এবার নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা সি. জোসেফ বিজয়, যিনি নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন।


নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অভিযোগ করেছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভিন্ন মতাদর্শের হলেও একজোট হয়ে তাকে ক্ষমতায় আসতে বাধা দিতে চাইছে। তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি শহরে এক জনসভায় তিনি বলেন, “সবাই একসঙ্গে কাজ করছে যেন আমি মুখ্যমন্ত্রী হতে না পারি।”


তামিলনাড়ুর রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রধান আঞ্চলিক দল—দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজগম (ডিএমকে) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজগম (এআইএডিএমকে)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।


বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিন ডিএমকে জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে বিরোধী জোটের নেতৃত্বে আছেন এডাপ্পাডি কে. পালানিস্বামী।


এই দুই শক্তিশালী জোটের মাঝখানে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে), যা নির্বাচনী লড়াইকে ত্রিমুখী করে তুলেছে।


বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালে নিজের দল গঠনের মাধ্যমে। তার আগে তিনি দীর্ঘদিন তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার চলচ্চিত্রগুলোতে সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা থাকায় অনেক আগে থেকেই রাজনীতিতে আসার ইঙ্গিত মিলেছিল।


বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে তিনি তরুণ, সংখ্যালঘু এবং কিছু নিম্নবর্গের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বিজয় সরাসরি ক্ষমতায় যেতে না পারলেও নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন। তিনি এমন ভোট টানতে পারেন, যা আগে প্রধান দুই দলের মধ্যে ভাগ হতো।


তবে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং শক্তিশালী সংগঠন কাঠামো।


তামিলনাড়ুতে চলচ্চিত্র তারকাদের রাজনীতিতে সফল হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। অতীতে এম. জি. রামাচন্দ্রন এবং জে. জয়ললিতার মতো ব্যক্তিত্বরা ক্ষমতায় এসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।


সেই ধারাবাহিকতায় বিজয়ের এই রাজনৈতিক লড়াইকে অনেকেই নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।


২৩৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তবে এই নির্বাচনে একটি বিষয় পরিষ্কার—তারকা শক্তি এবার রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন