- ২১ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড গাজা উপত্যকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো পরিচালনা নিয়ে একটি বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে।
আলোচনায় গাজায় মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্ভাব্য অংশীদারত্বের বিষয়টি উঠে আসে। এতে গুদামজাতকরণ, পণ্য ট্র্যাকিং প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া গাজায় অথবা নিকটবর্তী ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে নতুন বন্দর নির্মাণ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বৃহত্তর একটি পরিকল্পনার অংশ, যেখানে গাজার বিভিন্ন সেবা ও অবকাঠামো বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের চিন্তা করা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এমন পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের মতামতকে উপেক্ষা করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাকেও পাশ কাটাতে পারে।
বর্তমানে গাজায় শান্তি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে রয়েছে। ইজরায়েল-এর সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং সহায়তা প্রবেশেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি খসড়া পরিকল্পনায় “নিরাপদ ও স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা” এবং “বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো” গড়ে তোলার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ক্ষুদ্র শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
যদিও এই আলোচনা কতদূর এগিয়েছে বা কে প্রস্তাবটি প্রণয়ন করেছে, তা স্পষ্ট নয়। ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের কোনো আলোচনার বিষয়ে অবগত নন। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রতিদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালনা করে থাকে। অন্যদিকে, গাজার পুনর্গঠন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যৌথ এক মূল্যায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আগামী এক দশকে গাজার পুনর্গঠনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, গাজা পুনর্গঠন ও পরিচালনা নিয়ে এ ধরনের প্রস্তাব ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।