Tuesday, April 21, 2026

জাপানের প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, অস্ত্র বিক্রিতে নতুন দিগন্ত


ছবিঃ জাপানের প্রতিরক্ষা রপ্তানি (সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জাপান সরকার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতিতে ব্যাপক সংস্কার ঘোষণা করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশে অস্ত্র বিক্রির ওপর থাকা কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে, ফলে যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির পথ উন্মুক্ত হলো।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইছি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশ একা নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তাই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিতে অংশীদারিত্ব বাড়ানো সময়ের দাবি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিগত পরিবর্তন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে জাপানের ধীরে ধীরে সরে আসার আরেকটি ধাপ।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন চীন-এর আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা মোকাবিলায় জাপান তার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে। বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় নতুন সরবরাহকারী হিসেবে জাপানের সম্ভাবনা বাড়ছে।

তবে জাপানের এই পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, জাপান যদি নতুন করে সামরিকীকরণের পথে এগোয়, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।

অন্যদিকে, ফিলিপাইন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি-সহ কয়েকটি দেশ এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।

নতুন নীতিমালায় আগের মতো নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির সরঞ্জামের মধ্যে সীমাবদ্ধতা না রেখে প্রতিটি রপ্তানি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে সংঘাতপূর্ণ দেশে সরাসরি অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে টোকিও।

জাপান ইতোমধ্যে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো, আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংগ্রহের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্পও এগিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে জাপান শুধু তার প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে চাইছে না, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার দিকেও এগোচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন