- ২১ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে “নতুন কৌশল” সামনে আনতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ আটক করার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
আল জাজিরা-এর তেহরানভিত্তিক প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলেও ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, হুমকির মুখে কোনো আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয় এবং ইরান প্রয়োজন হলে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থান এক ধরনের “দ্বৈত বার্তা”—একদিকে আলোচনায় আগ্রহ, অন্যদিকে কঠোর শর্তে আপস না করার সংকেত। উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো বহু জটিল ইস্যু অমীমাংসিত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার।
অন্যদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসবে। তবে তা না হলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে। তার ভাষায়, কোনো সমঝোতা না হলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।