Tuesday, April 21, 2026

বিতর্কিত ম্যানিফেস্টো প্রকাশে আবারও সমালোচনায় প্যালান্টির


ছবিঃ ২০২৫ সালের ২৩শে আগস্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে প্যালান্টিয়ারের কার্যালয়ের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মানুষ মিছিল ও বিক্ষোভ করছে (সংগৃহীত । আল জাজিরা । এদুয়ার্দো মুনোজ/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির টেকনোলজিস সম্প্রতি তাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্প এবং কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান নিকোলাস জামিস্কা-এর সহলিখিত বই প্রযুক্তিগত প্রজাতন্ত্র -এর সারাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। ২২ দফার এই সারসংক্ষেপ বা ‘ম্যানিফেস্টো’ ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


প্রকাশিত লেখায় বলা হয়েছে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য জাতীয় প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা একটি “নৈতিক দায়িত্ব”। পাশাপাশি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা, বাধ্যতামূলক জাতীয় সেবার ধারণা এবং জনজীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। এসব অবস্থান অনেকের কাছে প্রযুক্তি খাতের প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে রাজনৈতিক ও আদর্শিক মত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সমালোচকদের মতে, একটি বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এমন মতাদর্শ প্রচার উদ্বেগজনক। অনলাইন অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম বেলিংক্যাট-এর প্রতিষ্ঠাতা এলিয়ট হিগিন্স মন্তব্য করেছেন, এটি নিছক তাত্ত্বিক আলোচনা নয়; বরং এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অবস্থান, যার আয়ের বড় অংশ আসে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাত থেকে।


বইটির আরেকটি আলোচিত অংশে বলা হয়েছে, সব সংস্কৃতি সমান নয়—কিছু সংস্কৃতি উন্নত, আবার কিছু সংস্কৃতি পিছিয়ে থাকা বা ক্ষতিকর। এই বক্তব্যকে অনেকেই বৈষম্যমূলক ও বিভাজন সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখছেন।


ইউরোপের বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিকও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। প্রযুক্তি নীতিশাস্ত্রবিদ মার্ক কোকেলবার্গ একে “টেকনোফ্যাসিজমের উদাহরণ” বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, গ্রিসের সাবেক অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারুফাকিস আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।


২০০৩ সালে পিটার থিয়েল-এর সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত প্যালান্টির মূলত তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরি করে, যা বিভিন্ন সরকার, সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে সমালোচিত হয়ে আসছে।


মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, প্যালান্টির প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে নজরদারি বৃদ্ধি এবং সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা তাদের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই কাজ করছে।


বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্যালান্টির কার্যক্রম ও প্রভাব নিয়ে সমালোচনা বেড়ে যাওয়ায় এই ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছে, তবুও এতে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।                


তথ্যসুত্রঃ আল জাজিরা 

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন