Monday, June 8, 2026

লন্ডন বৈঠকের পরই রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি ভয়াবহ হামলা


ছবিঃ ৭ জুন, ২০২৬ তারিখে লন্ডনে জেলেনস্কি ই৩ নেতাদের ফ্রান্সের ম্যাক্রোঁ, জার্মানির মের্জ এবং যুক্তরাজ্যের স্টারমারের সাক্ষাৎ করেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা / আলিশিয়া আবোদুন্দে/গেটি ইমেজেস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির লন্ডনে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ওপর নতুন করে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় দুই পক্ষেই হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

সোমবার ভোরে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও গোলাবর্ষণে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর ইভান ফেদোরভ। তিনি জানান, হামলায় আবাসিক ভবন, যানবাহন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একই সময়ে ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে রুশ বাহিনীর হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে এক হাজারেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।

এর আগে চেরনোবিলের অচল পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে একটি জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় একটি ট্রেন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় এক সহকারী চালক নিহত এবং চালক আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে একটি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি পাম্পিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এছাড়া ব্ল্যাক সি বন্দর নভোরোসিস্কে ড্রোন হামলার পর একটি লোডিং কমপ্লেক্সে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এই হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল যখন জেলেনস্কি লন্ডনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধবিরতি আলোচনার আহ্বান জানান।

তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, আপাতত জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।

যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের নেতারা জেলেনস্কির শান্তি আলোচনার আহ্বানকে সমর্থন জানালেও যুদ্ধ থামার বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। দ্রুত কোনো যুদ্ধবিরতি না এলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন