- ০৮ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে টানা দুই দিনের উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১১ জনকে অবশেষে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ফিরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুর পাশাপাশি একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।
সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সতর্ক পাহারার কারণে তারা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঢুকতে পারেননি। এরপর তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বাধ্য হন।
খোলা আকাশের নিচে কয়েকদিন ধরে অবস্থান করায় মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারী থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বিষয়টি সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদার করে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা প্রতিরোধে সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, তাদের কঠোর অবস্থান ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের পর রোববার গভীর রাতে বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১১ জনকে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এর ফলে সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বর্তমানে জিরো লাইনে কোনো ব্যক্তি অবস্থান করছে না এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের তৎপরতার ফলে সম্ভাব্য মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।