- ০৯ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুষ্টিয়া
বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পানি ঢুকে পড়ে নিচতলার শ্রেণিকক্ষ, কমনরুম ও অফিস কক্ষে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পুরো খেলার মাঠ পানিতে তলিয়ে থাকায় দীর্ঘ সময় খেলাধুলা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা যায়, নিচতলার কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে পানি জমে রয়েছে। এমন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। পানিবন্দি শ্রেণিকক্ষেই ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের মাঠের বিভিন্ন অংশে হাঁটুপানি জমে থাকায় সেটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আল্লারদর্গা বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় বছরের একটি বড় সময় বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করা যায় না। কখনো কখনো জমে থাকা পানি শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষেও ঢুকে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নোংরা পানি জমে থাকায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। ভেজা পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে আসতেও অনীহা দেখায়। এতে নিয়মিত পাঠগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাছকিয়া আক্তার বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই শ্রেণিকক্ষ, কমনরুম ও শিক্ষকদের অফিসে পানি জমে যায়। এতে বই-খাতা ও স্কুলের পোশাক ভিজে যায়। অনেক সময় সারাদিন ভেজা অবস্থায় থাকতে হয়। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতাও দেখা দেয়। তিনি বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রিহান জানায়, শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় প্রতিদিন ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিবছর একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরই মধ্যে কয়েকজন সহপাঠী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অনেকে বিদ্যালয়ে আসছে না। এতে তাদের পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ নীরব বলেন, বছরের প্রায় ছয় মাসই মাঠে পানি জমে থাকে। বর্ষায় কোথাও কোথাও হাঁটুপানি হয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পরও মাঠে কাদা, শামুক ও বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় থাকে। খেলতে গিয়ে পায়ে আঘাতও লাগে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে খেলাধুলা বন্ধ থাকে।
অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, আবার কেউ কেউ বিদ্যালয়ে যেতে চাচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করছে। তবে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষে পানি ঢুকে পড়ে এবং প্রায় ছয় মাস খেলার মাঠ ব্যবহার করা যায় না। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠগ্রহণের পাশাপাশি খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না এবং কেউ কেউ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পাঠদান ও পাঠগ্রহণের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাময়িকভাবে পানি সরানোর পরিবর্তে বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।