- ০৯ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বব্যাপী ডেভেলপারদের সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্স (WWDC) ২০২৬’-এ নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি এবার শুধু নতুন ফিচার নয়, বিদ্যমান সফটওয়্যার ও সেবাগুলোর কার্যকারিতা উন্নত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী উপস্থাপনায় অ্যাপলের সফটওয়্যার প্রধান ক্রেইগ ফেদেরিগি বলেন, বড় উদ্ভাবনের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করাই তাদের লক্ষ্য। এ সময় তিনি বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে আনা একাধিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।
অ্যাপলের আলোচিত ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন নিয়ে ব্যবহারকারীদের সমালোচনার পর কোম্পানিটি নতুন কিছু সমন্বয় এনেছে। এখন ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ইন্টারফেসের স্বচ্ছতা ও রঙের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। পাশাপাশি ম্যাকওএসে টুলবার ও আইকনের নকশাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে ব্যবহার আরও সহজ ও আরামদায়ক হয়।
পারফরম্যান্স উন্নয়নের অংশ হিসেবে অ্যাপল জানিয়েছে, নতুন সফটওয়্যার সংস্করণে আইফোন ও আইপ্যাডের অ্যাপ চালু হওয়ার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ছবি সংরক্ষণ, ফাইল স্থানান্তর এবং বিভিন্ন সিস্টেম প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় দ্রুত সম্পন্ন হবে। এমনকি কয়েক বছর পুরোনো ডিভাইসগুলোকেও এই উন্নয়নের আওতায় রাখা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের কিছু ব্যবহারিক সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়াই-ফাই ও মোবাইল নেটওয়ার্কের মধ্যে আরও মসৃণ সংযোগ, উন্নত সার্চ ব্যবস্থা এবং বার্তা আদান-প্রদানে বিলম্বের তথ্য জানানোর মতো সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নতুন সংযোজন এনেছে অ্যাপল। হেলথ অ্যাপে নারীদের পেরিমেনোপজ ও মেনোপজ-সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের একটি চাহিদা ছিল।
এছাড়া আইক্লাউডের শেয়ারড ফটো অ্যালবাম এখন অ্যান্ড্রয়েড ও উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্যও উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে ভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীরাও একই অ্যালবামে ছবি যুক্ত করতে পারবেন।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এআই-সমৃদ্ধ নতুন সিরি। অ্যাপল জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে এই সংস্করণ উন্মুক্ত করা হবে। নতুন সিরি ব্যবহারকারীর প্রয়োজন আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে এবং বিভিন্ন অ্যাপ ও সেবার সঙ্গে গভীরভাবে সমন্বিত হয়ে কাজ করবে।
অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের আওতায় ওয়েব ব্রাউজিং, বার্তা আদান-প্রদান, ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা এবং ফোন কলের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য শনাক্ত করার মতো নতুন সুবিধাও ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ছবি সম্পাদনা ও কনটেন্ট তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
ইমেজ প্লেগ্রাউন্ড নামের এআইভিত্তিক ছবি তৈরির টুলেও বড় ধরনের উন্নয়ন আনা হয়েছে। এখন এটি শুধু সৃজনশীল ছবি নয়, ব্যবহারিক কাজের উপযোগী ডিজাইন ও গ্রাফিক্সও তৈরি করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি ডেভেলপারদের জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগও উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ডব্লিউডব্লিউডিসিতে অ্যাপল শুধু নতুন এআই প্রযুক্তি প্রদর্শন করেনি; বরং ব্যবহারকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান পণ্য ও সেবার মানোন্নয়নের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিয়েছে। প্রযুক্তি বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যে এটি অ্যাপলের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।