Sunday, January 11, 2026

ভর্তি শেষ হলেও স্কুলে ফাঁকা প্রায় ৮ লাখ আসন, তবু অনিশ্চয়তায় বহু শিক্ষার্থী


প্রতীকী ছবিঃ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

কেন্দ্রীয় লটারি ও নির্ধারিত ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলেও দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে এখনো বিপুলসংখ্যক আসন শূন্য পড়ে আছে। হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৮ লাখ শিক্ষার্থী আসন ফাঁকা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করেও এখনো কোনো স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও উদ্বেগ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানায়, কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও যেসব প্রতিষ্ঠানে আসন শূন্য রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি করানোর সুযোগ আছে। অর্থাৎ, শূন্য আসনে ভর্তি একেবারে বন্ধ নয়।

মাউশির তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি স্কুলগুলোতে মোট আসন ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৫৯৬টি। এসব আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখের বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ পায় ১ লাখ ৭ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী। এতে সরকারি স্কুলে এখনো প্রায় ১৪ হাজার আসন খালি রয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি স্কুলগুলোর চিত্র আরও বিস্তৃত। সেখানে মোট আসন ছিল প্রায় ১০ লাখ ৭৩ হাজার। কিন্তু আবেদন পড়ে তুলনামূলকভাবে কম—মাত্র ৩ লাখ ৩৬ হাজারের মতো। ভর্তির সুযোগ পেয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার শিক্ষার্থী। ফলে বেসরকারি স্কুলগুলোতেই ফাঁকা পড়ে আছে সাড়ে ৮ লাখের কাছাকাছি আসন।

তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, এত শূন্য আসন থাকা সত্ত্বেও বহু শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না। ঢাকার এক অভিভাবক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “আমার সন্তান একাধিক স্কুলে আবেদন করেও কোথাও সুযোগ পায়নি। লটারির ওপর ভরসা করেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভর্তি করাতে পারিনি। বিষয়টি আমাদের জন্য খুব হতাশাজনক।”

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈপরীত্যের মূল কারণ অভিভাবকদের মানসিকতা। শিক্ষা গবেষকদের মতে, অধিকাংশ অভিভাবকই নামকরা বা ‘জনপ্রিয়’ স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাতে চান। ফলে নির্দিষ্ট কিছু স্কুলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, আর বহু স্কুলে আসন খালি থেকে যায়।

এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক অধ্যাপক মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর শূন্য আসন পূরণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলো মাউশির অনুমতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

তিনি আরও জানান, শূন্য আসনে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে অপেক্ষমাণ তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীরা। তবে ওয়েটিং লিস্টে কেউ না থাকলে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও অবশ্যই লটারির মাধ্যমে ভর্তি করতে হবে। সরাসরি বা লটারি ছাড়া ভর্তির কোনো সুযোগ নেই।

সব মিলিয়ে, স্কুলে শূন্য আসন থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থীর ভর্তি না হওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী শূন্য আসন পূরণের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটির দিকেই তাকিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন