Saturday, February 28, 2026

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা বেড়েছে, স্কুল পর্যায়ে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক: আঁচল ফাউন্ডেশন


প্রতীকী ছবিঃ ফাসি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই স্কুল শিক্ষার্থী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় আঁচল ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ঘটনার মধ্যে ১৯০ জনই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী, যা মোট আত্মহত্যার ৪৭.৪০ শতাংশ। কৈশোরকালীন সংবেদনশীল মানসিক অবস্থাই এই ঝুঁকির বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কুল পর্যায়ে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ১৩৯ জন মেয়ে এবং ৫১ জন ছেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক ও পারিবারিক প্রত্যাশা, আবেগীয় অস্থিরতা এবং চাপের কারণে কিশোরী মেয়েরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পরিবারের প্রতি অভিমান, যা ৩২.৬১ শতাংশ ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে। পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ ২৩.৬৯ শতাংশ এবং বিষণ্ণতা বা হতাশা ১৯.৪৭ শতাংশ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া প্রেমঘটিত জটিলতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও যৌন নির্যাতনের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেই আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি—মোট ঘটনার ৬৬.৫০ শতাংশ। বিভাগীয় হিসেবে ঢাকা বিভাগ-এ সর্বোচ্চ ১১৮ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নগরজীবনের প্রতিযোগিতা ও শিক্ষাব্যবস্থার চাপ এ প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থার অভাবকে বড় সংকট হিসেবে তুলে ধরেন। পরিবারের সঙ্গে সন্তানের খোলামেলা যোগাযোগের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করছে বলে মত দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কনসালট্যান্ট ফরেন্সিক সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. আনিস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপলউড সেন্টারসের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. মারুফ আহমেদ খান, সংগঠনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন এবং প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটি ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন