Thursday, February 5, 2026

ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ, নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রধান কারণ


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যদিও বিসিবি এখনো বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবিতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, তবে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছে আইসিসি।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইসিসির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলো বিসিবি ও ক্রিকেটারদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বিশ্বকাপে অংশ না নিলে ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন ক্রিকেটাররা।

সাধারণ হিসাবে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেই বিসিবি ও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ এবং ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রায় চার কোটি টাকা (প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার) আয় হওয়ার কথা। আরও ভালো পারফরম্যান্স করলে এই অঙ্ক সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে এই অর্থ আর পাওয়া যাবে না।

এ ছাড়া বিসিবি আইসিসির কাছ থেকে যে তিন থেকে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার অংশগ্রহণ ফি পাওয়ার কথা ছিল, সেটিও হারাতে হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় চার থেকে ছয় কোটি টাকার সমান। ফলে বোর্ডের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপটি না খেললে শুধু বোর্ড বা খেলোয়াড়রাই নয়, টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক দিকেও প্রভাব পড়তে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সাধারণত উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন দর্শক টানে। বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে টিআরপি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিজ্ঞাপনদাতা ও স্পন্সরদের আগ্রহেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, বাংলাদেশের মতো প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশের অংশগ্রহণ ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন আইসিসির জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে। যদিও প্রচারস্বত্ব আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় আইসিসির সরাসরি ক্ষতি সীমিত থাকবে, তবে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞাপনদাতাদের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।

এই সংকটের পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। গত বছরের জুলাইয়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে খেলা ও দর্শক হিসেবে ম্যাচ দেখার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির’ কারণ দেখিয়ে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়—যেখানে একজন আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে পুরো দল, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।

এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার—ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আইসিসি যদি বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনা করে, তাহলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবি মেনে নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ নিরাপত্তা মূল্যায়ন, আয়োজক দেশের নিশ্চয়তা এবং নির্ধারিত শর্ত মেনেই ভেন্যু নির্বাচন করা হয়েছে, যা সব অংশগ্রহণকারী দলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

আইসিসি আরও জানায়, স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রমাণ ছাড়া ম্যাচ স্থানান্তর করলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিসিবি আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে—সেদিকেই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন