- ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের এর সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা কর্মীরা। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে ধাপে ধাপে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা যমুনার সামনে জড়ো হন। কর্মসূচিতে অংশ নেন নিহত হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর উল্লেখযোগ্য সময় পার হলেও তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তাদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কাঠামো ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে আন্তর্জাতিক মানের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, যা কেবল জাতিসংঘের অধীনেই সম্ভব।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সাংবাদিকদের বলেন, “হাদি হত্যার বিচার নিয়ে আমরা কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখছি না। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা যমুনার সামনে অবস্থান চালিয়ে যাব।”
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শুরুতে অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নিলেও প্রয়োজনে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনার সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
সন্ধ্যার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনেও ইনকিলাব মঞ্চের আরেকটি দল অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ সড়কের কয়েকটি প্রবেশমুখে ব্যারিকেড বসালে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইনকিলাব মঞ্চের দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।