Thursday, February 5, 2026

ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ১২৮ বাংলাদেশি মৎস্যজীবী, ফেরত এলো পাঁচটি ট্রলার


ছবিঃ আটকে থাকাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার আওতায় ভারতে দীর্ঘদিন আটক থাকা ১২৮ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মালিকানাধীন পাঁচটি মাছ ধরার ট্রলারও হস্তান্তর করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী রেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ টিম সেখানে উপস্থিত থেকে ফেরত আসা মৎস্যজীবীদের গ্রহণ করে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, মানবিক ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। একই দিনে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক থাকা ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এ সময় ভারতের মালিকানাধীন দুটি ফিশিং বোট ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় দুই দেশের কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মৎস্যজীবী ও ট্রলার বিনিময়ের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘদিন পর পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক মৎস্যজীবী।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই বৃহৎ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সফল করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। পাশাপাশি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনও প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে।

মূলত সাগরে মাছ ধরার সময় দিকভ্রান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় এসব মৎস্যজীবী একে অপরের দেশে আটক হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বৈরী আবহাওয়া ও নেভিগেশন সমস্যাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোস্ট গার্ড সূত্র আরও জানায়, দেশে ফেরার পর বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দুই দেশের কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের নিয়মিত বিনিময় কার্যক্রম পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রে মাছ ধরার সময় আন্তর্জাতিক সীমা সম্পর্কে মৎস্যজীবীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন