- ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। শেরপুর
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও জনগণের ওপর আস্থাহীনতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়—অন্য পক্ষের সাফল্য বা বিজয় অনেকেই সহ্য করতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর পানির ট্যাংকি এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শেরপুরের সাম্প্রতিক সহিংসতা কিসের ইঙ্গিত দেয়—এমন প্রশ্নে জামায়াত আমির এ মন্তব্য করেন।
এর আগে বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিহত ব্যক্তি মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি স্থানীয় ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
ঢাকা-১৫ আসনে নিজের নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ও জামায়াতের ডিজিটাল প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত ‘মাল্টিমিডিয়া বাস’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান আরও বলেন, শেরপুরের ঘটনায় নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছি, প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। এটি শুধু আমাদের অধিকার নয়, জনগণের অধিকার। আর কাউকে জনগণের অধিকার নিয়ে টানাটানি করতে দেওয়া হবে না।”
একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, নতুন বাংলাদেশ মানে দেশের সীমানা পরিবর্তন নয়; বরং মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও শাসনদর্শনের পরিবর্তন। তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ওপর জুলুম ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও অপরাধমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবর্তনের সরকার গঠনের লক্ষ্য রয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পুরোনো ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে। এরপর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম শক্তির হাতেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।