Thursday, February 5, 2026

২০১৬ সালের কল্যাণপুর অভিযান: ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা সহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র


ফাইল ছবিঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

২০১৬ সালে রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজ বিল্ডিং নামে পরিচিত একটি ভবনে পরিচালিত আলোচিত জঙ্গি অভিযানে ৯ তরুণ নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক ডিবি ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কল্যাণপুরের ওই ভবনে একটি তথাকথিত ‘জঙ্গি আস্তানা’ চিহ্নিত করে অভিযান চালানোর নাটক সাজানো হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নিহত ৯ তরুণকে এর অনেক আগেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘ সময় ধরে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। পরে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওই ভবনে নেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সোয়াট ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। অভিযানের পর পুলিশের পক্ষ থেকে জঙ্গি নিহত হওয়ার যে তথ্য প্রচার করা হয়েছিল, তা ছিল সাজানো ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

তদন্তে উঠে এসেছে, তৎকালীন সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে দেশজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে এমন একাধিক অভিযানের আয়োজন করেছিল। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানো সেই সময় একটি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রাতের আঁধারে ব্লক রেইডের নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল জনমনে ভয় সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক মহলে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরা। অভিযানের পর জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার দেখানো আলামত এবং তদন্ত প্রতিবেদনগুলোও ছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচারের দাবি এবং ক্ষোভ থেকেই এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ গ্রহণ করা হলে পরবর্তী শুনানিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।

এই অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে কল্যাণপুরের বহুল আলোচিত সেই অভিযানের বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন