- ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংকটের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাঁদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা জানান, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে শরণার্থীদের শিবিরে আটকে রাখা কোনো টেকসই পথ হতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাতকালে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি শরণার্থীদের স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জবাবে ড. ইউনূস বলেন, গত এক বছরে একাধিক আন্তর্জাতিক ও উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রার বৈশ্বিক মনোযোগ পাচ্ছে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শিবিরে প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত একটি হতাশ তরুণ প্রজন্ম গড়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত টানাপোড়েন বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে ভাসানচরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, কিছু শরণার্থী ভাসানচর ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
এ সময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গেও কথা হয়। ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নতুন ভোটারদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় করে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন জানান, সংস্থাটির নতুন প্রধান বারহাম সালিহ অচিরেই বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, ইউএনএইচসিআরের নতুন প্রতিনিধি এই সংকট সমাধানে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।