- ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রাজশাহী
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকা থেকে ভ্যানচালক মো. গোলাপ (৪৫) এসেছেন আজকের জনসভায়। সঙ্গে তাঁর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আবীর। বাবার হাতে প্লাস্টিকের ধানের শীষ, ছেলের হাতে দলীয় পতাকা। জনসভা মাঠের উত্তরের ফটকে দাঁড়িয়ে তারা মিছিলের পর মিছিলকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। দলের কোনো পদ নেই গোলাপের। তবু দীর্ঘদিন পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীতে আসছেন—এই আনন্দেই সকাল থেকে ছেলেকে নিয়ে মাঠে হাজির হয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রধান হিসেবে রাজশাহীতে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজশাহী নগরের হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে—স্থানীয়ভাবে পরিচিত ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে—এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টার মধ্যেই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের ১৩টি সংসদীয় আসন থেকে আগত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভিড়ে মাঠ প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজ রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় বিমানবন্দর সড়ক ও পবা উপজেলা পরিষদ এলাকায় ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। নগরের আমচত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই জনসভা মাঠে মানুষের ঢল নামে। দূর-দূরান্ত থেকে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে নেতা-কর্মীরা এলেও নির্দিষ্ট স্থানে যানবাহন রেখে হেঁটেই মাঠে প্রবেশ করেন। শুধু দলীয় কর্মী নয়, অনেক সাধারণ মানুষও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের বেশভূষা ও আচরণেই স্পষ্ট—দলীয় দায়িত্ব নয়, আগ্রহ আর আবেগ থেকেই তাঁরা এসেছেন।
বাগমারা উপজেলা থেকে ভোরেই ট্রাকে করে জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন কৃষক মঈম (৫৬)। মাথায় ধানের শীষের ফিতা, রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গায়ের জ্যাকেট কাঁধে ঝুলিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার কোনো পরিচয় নেই, পদও নেই। দলটাকে ভালো লাগে, তাই এসেছি।” তাঁর সঙ্গে প্রায় শতাধিক মানুষ এসেছেন বলে জানান তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা আম ও গুড় ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম (৫৬) বলেন, “আমরা ১২ জন মিলে মাইক্রোবাসে এসেছি। সকাল সাতটায় বের হয়ে হালকা নাশতা সেরে ১০টার মধ্যে মাঠে পৌঁছাই।”
সকাল ১০টার পর থেকে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যায়ক্রমে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন। মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা উঠে আসে বক্তৃতায়। মাঠের বাইরেও বক্তব্য শোনানোর জন্য স্থাপন করা হয়েছে একাধিক মাইক। দলীয় সূত্র জানায়, জনসভার জন্য প্রায় ৭০টি মাইক ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিমানবন্দর থেকে নেমে তারেক রহমান হজরত শাহ মখদুম (রহ.)–এর দরগাহ শরিফে জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি সরাসরি জনসভায় যোগ দেবেন। রাজশাহীর সমাবেশ শেষে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তিনি নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হবেন। সন্ধ্যায় নওগাঁ ও রাতে বগুড়ায় পৃথক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রাজশাহী সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম আগমন। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজশাহী অঞ্চলের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। জনসভা থেকে তিনি আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট চাইবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।