- ১৩ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বাজারে তার কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি। বরং রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চাল, আটা ও ডালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেখা গেছে।
শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরানবাজার ও তুরাগ এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়। বাজেটে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, চিনি, লবণ ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বাজারে এখনো সেই সুবিধা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, মাঝারি ও মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে পাইজাম ও লতা জাতের চাল মানভেদে ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে মোটা চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা প্রতি কেজি। খোলা আটার দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ছোলার ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, কর কমানোর ঘোষণা এলেও ব্যবসায়ীরা তার সুফল দ্রুত বাজারে প্রতিফলিত করছেন না। চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, “দাম বাড়ানোর খবর এলে বাজারে তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়, কিন্তু কমানোর ক্ষেত্রে নানা অজুহাত দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষ এতে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পায় না।”
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেটের ঘোষণার পরপরই বাজারে দাম কমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ বর্তমানে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ পণ্য পুরোনো দামে কেনা। নতুন কর কাঠামোর আওতায় আমদানি বা সরবরাহ হওয়া পণ্য বাজারে এলে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
তুরাগ এলাকার এক মুদি ব্যবসায়ী জানান, কর ছাড়ের সুবিধা বাস্তবে কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে। নতুন চালান আসার পর বাজারে মূল্য সমন্বয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সবজি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পেঁপে, ঢ্যাঁড়শ, পটোলসহ বেশ কয়েক ধরনের সবজি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। মুরগির বাজারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে এবং ডিমের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে এখনও উচ্চমূল্যের চাপ বজায় রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভোক্তারা মনে করছেন, বাজেটে ঘোষিত কর ছাড়ের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা আশা করছেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।