- ১৫ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছালেও তিন মাস পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত শিশুর সংখ্যা ৮৫ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছে ৬৫০-এর বেশি শিশু, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর দেশে এত বড় আকারে হামের বিস্তার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মত তাদের।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বে-নজির আহমেদ মনে করেন, সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হলে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমানো সম্ভব ছিল। তার মতে, প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং সমন্বিত প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত দাবি করেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়নি। তার ভাষ্য, যথাসময়ে টিকাদান কর্মসূচি ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালু না করলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত।
রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে এখনও রোগীর চাপ রয়েছে। অনেক পরিবার দূর-দূরান্ত থেকে সন্তানদের উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকায় আসছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অধিকাংশ জটিল রোগী হাসপাতালে আসার আগেই নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে, যা চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নয়, সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। দুই মাস আগে শুরু হওয়া বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চললেও এখনো সব শিশুকে এর আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, চলমান হাম পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতিকে দায়ী করছেন বর্তমান সরকারের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে হাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কভারেজ বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অন্যথায় শিশুস্বাস্থ্যের জন্য এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।