- ১১ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। গাইবান্ধা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কৌশলে নবজাতক চুরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগে এক দম্পতিকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় ওই দম্পতির কাছ থেকে চুরি হওয়া নবজাতককেও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। আটকরা হলেন উপজেলার ফাঁসিতলা গ্রামের মৃত ভোলা মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শিফালী বেগম।
নবজাতকের স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তালুককানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম সন্তান প্রসবের জন্য সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
শিশুটির জন্মের পর তার দাদি জয়গুন বেওয়া তাকে কোলে নিয়ে ওয়ার্ডে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় পাশের একটি বেডে থাকা শিফালী বেগম নিজেকে প্রসূতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে কোলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে না হওয়ায় জয়গুন বেওয়া শিশুটিকে তার কোলে তুলে দেন।
কিছুক্ষণ শিশুটিকে কোলে রাখার পর সুযোগ বুঝে শিফালী বেগম তার স্বামী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে হাসপাতালের নিচতলায় নেমে যান। তারা শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি টের পান স্বজনরা।
শিশুকে দেখতে না পেয়ে জয়গুন বেওয়া চিৎকার শুরু করলে হাসপাতালের আশপাশের লোকজন ও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাদের পিছু নেন। একপর্যায়ে শিশুসহ শিফালী ও সিরাজুলকে আটক করা সম্ভব হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পরে খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই দম্পতিকে হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, তারা একটি শিশু পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসূতি সেজে হাসপাতালে অবস্থান করার জন্য শিফালী বেগম পেট ও কোমরে কাপড় পেঁচিয়ে রেখেছিলেন বলেও পুলিশ জানায়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নবজাতকের মায়ের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার জানান, নবজাতক চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।