- ১৫ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ কংস নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার পর ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে বের হওয়ার পর শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে কিছু দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয়রা একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে করেছিলেন। তবে রাতে দাফনের প্রস্তুতির সময় মরদেহ গোসল করাতে গিয়ে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষতের চিহ্ন দেখতে পান। এরপর তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে গভীর রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার সকালে মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিকেলে খাবার খেয়ে মেয়েটি বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়েছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এমন নির্মম ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে যৌন নির্যাতনের পর হত্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।