- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
মালিকানা কাঠামোয় পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের হালনাগাদ গোপনীয়তা নীতি ঘিরে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অ্যাপের ভেতরে পাঠানো একটি নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নীতিমালার পরিবর্তনের বিষয়টি জানার পর অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন টিকটক নাকি তাদের অতিসংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
নতুন নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট বা জরিপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য থেকে নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, যৌন জীবন বা যৌন পরিচয়, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যসহ কিছু সংবেদনশীল উপাত্ত প্রক্রিয়াজাত হতে পারে। এই ভাষ্য সামনে আসার পর অনেকেই গোপনীয়তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন, কেউ কেউ অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার হুমকিও দিচ্ছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাষা নতুন নয় এবং এটি ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির ইঙ্গিতও দেয় না। এর আগের গোপনীয়তা নীতিতেও একই ধরনের ব্যাখ্যা ছিল। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কঠোর গোপনীয়তা আইন মেনে চলতেই এমন স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার কনজ্যুমার প্রাইভেসি অ্যাক্ট (CCPA) ও ক্যালিফোর্নিয়া প্রাইভেসি রাইটস অ্যাক্ট (CPRA) অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ‘সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য’ সংগ্রহ বা প্রক্রিয়াজাত করে, তাহলে তা আগেই ব্যবহারকারীদের জানাতে হয়। এসব আইনে নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, জাতিগত পরিচয়, যৌন পরিচয় ও নির্দিষ্ট অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটক আসলে বলছে ব্যবহারকারীরা যদি নিজেরাই এসব বিষয়ে ভিডিও তৈরি করেন বা কনটেন্টে উল্লেখ করেন, তাহলে সেই তথ্য প্রযুক্তিগতভাবে প্ল্যাটফর্মের ডেটার অংশ হয়ে যায়। তবে এসব তথ্য আইন অনুযায়ীই ব্যবহৃত হবে এবং তা ইচ্ছেমতো সংগ্রহ বা বিশ্লেষণ করা হবে না।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার হওয়া এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এমন তথ্য ভবিষ্যতে সরকারি নজরদারির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে প্রযুক্তি ও গোপনীয়তা বিশ্লেষকদের মতে, টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা মূলত আইনজীবী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য লেখা হয়, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়। ফলে ভাষা অনেক সময় কঠোর ও ভীতিকর মনে হতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম নতুন একটি যৌথ উদ্যোগের আওতায় আনার অন্যতম কারণই ছিল বিদেশি রাষ্ট্রের সম্ভাব্য নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ। তবে সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে, এখন অনেক ব্যবহারকারী বিদেশি হুমকির চেয়ে নিজেদের সরকারের সম্ভাব্য তথ্য ব্যবহারের দিকেই বেশি শঙ্কিত।