- ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রস্তাবিত বিতর্কিত ‘বিলিয়নিয়ার্স ট্যাক্স’ আইনকে ঘিরে আলোচনায় এবার যোগ হলো এক অদ্ভুত প্রতিবাদ কর্মসূচি। সান ফ্রান্সিসকোতে ‘মার্চ ফর বিলিয়নিয়ার্স’ নামের একটি সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে বিস্ময়, কৌতুক এবং সমালোচনা—সবই একসঙ্গে।
সম্প্রতি অনলাইনে একটি ওয়েবসাইট প্রকাশ পায়, যেখানে এই কর্মসূচির প্রচার চালানো হয়। সেখানে খুব বেশি ব্যাখ্যা না থাকলেও একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য সবার দৃষ্টি কাড়ে— “বিলিয়নিয়ারদের দোষারোপ করা জনপ্রিয়, কিন্তু তাদের হারানো ব্যয়বহুল।” প্রথমে অনেকেই বিষয়টিকে নিছক ব্যঙ্গ বা রসিকতা বলে ধরে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে থাকে, এটি আদৌ বাস্তব কোনো আয়োজন কি না।
তবে সন্দেহ দূর করে আয়োজকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচি কোনো কৌতুক নয় এবং আগামী শনিবারই এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সান ফ্রান্সিসকো এক্সামিনারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই আয়োজনের উদ্যোক্তা হলেন ডেরিক কফম্যান, যিনি এআইভিত্তিক স্টার্টআপ রানআরএল-এর প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটি একসময় ওয়াই কম্বিনেটরের অ্যাক্সিলারেটর প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিল। কফম্যান জানিয়েছেন, এই সমাবেশের পেছনে কোনো বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, করপোরেট সংস্থা বা ধনী সংগঠন নেই—পুরোটাই তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ।
টেকক্রাঞ্চকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কফম্যান জানান, তিনি বর্তমানে রানআরএলের সঙ্গে যুক্ত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমাবেশ আয়োজনের মূল কারণ হলো ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাবিত বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স আইন, যা তিনি প্রযুক্তি খাতের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন।
প্রস্তাবিত বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, যেসব ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর মোট সম্পদের মূল্য ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি, তাদের ওপর একবারের জন্য মোট সম্পদের ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। এই আইনটির পেছনে রয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যখাতের শ্রমিক সংগঠন এসইআইইউ। সমর্থকদের দাবি, এতে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে জনসেবা খাত শক্তিশালী করা যাবে এবং কেন্দ্রীয় তহবিল কমে যাওয়ার ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
তবে প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছেন। কেউ কেউ ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন, আবার কেউ ইতোমধ্যে রাজ্য ছেড়েছেন। পাশাপাশি আইনটি ঠেকাতে আইনসভায় জোরালো লবিংও চলছে।
ডেরিক কফম্যানের মতে, এই করব্যবস্থা স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষভাবে সমস্যাজনক। তিনি বলেন, অনেক উদ্যোক্তার সম্পদ কেবল কাগজে-কলমে থাকে, বাস্তবে নগদ অর্থ নয়। এই কর দিতে গেলে তাদের শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হতে হবে, যা নিয়ন্ত্রণ হারানো, অতিরিক্ত ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করবে।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে এমন পূর্ণাঙ্গ সম্পদ করের নজির নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি সুইডেনের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রায় দুই দশক আগে সম্পদ কর বাতিল করা হয় উদ্যোক্তা ও পুঁজি দেশত্যাগ ঠেকাতে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে এই আয়োজন নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ থামেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সত্যিই কি কোনো বিলিয়নিয়ার রাস্তায় নেমে মিছিল করবেন? কফম্যান নিজেও স্বীকার করেছেন, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো বিলিয়নিয়ারকে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিশ্চিত করতে পারেননি। তার ধারণা, সর্বোচ্চ কয়েক ডজন মানুষ এই সমাবেশে অংশ নিতে পারেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স আইন বাস্তবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই খুব কম। কারণ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আইনটি পাস হলেও তিনি সেটিতে ভেটো দেবেন।