Monday, February 9, 2026

ডিপ টেক স্টার্টআপে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দিতে নীতিমালা বদলাচ্ছে ভারত


ছবিঃ ভারত (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

স্পেস, সেমিকন্ডাক্টর ও বায়োটেকনোলজির মতো ডিপ টেক খাতে কাজ করা স্টার্টআপগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে স্টার্টআপ নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ভারত সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিপ টেক কোম্পানিগুলো এখন ২০ বছর পর্যন্ত ‘স্টার্টআপ’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, যা আগে ছিল ১০ বছর।

একই সঙ্গে স্টার্টআপ হিসেবে কর ছাড়, সরকারি অনুদান ও নীতিগত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই সীমা ছিল ১০০ কোটি রুপি। সরকারের মতে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলভিত্তিক উদ্যোগগুলোর দীর্ঘ গবেষণা ও উন্নয়নচক্রের সঙ্গে নীতিগত সময়সীমার সামঞ্জস্য আনতেই এই পরিবর্তন।

এই নীতিগত সংস্কার ভারতের দীর্ঘমেয়াদি ডিপ টেক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ঘোষণা করা হয় এক ট্রিলিয়ন রুপি বা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন তহবিল (আরডিআই ফান্ড)। এই তহবিলের লক্ষ্য হলো গবেষণাভিত্তিক কোম্পানিগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ধৈর্যশীল অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা।

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও জোরদার হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম মিলে ‘ইন্ডিয়া ডিপ টেক অ্যালায়েন্স’ নামে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল গঠন করেছে। এতে অ্যাকসেল, ব্লুম ভেঞ্চারস, সেলেস্টা ক্যাপিটাল, প্রেমজি ইনভেস্ট, কোয়ালকম ভেঞ্চারসসহ একাধিক বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়া এই উদ্যোগে পরামর্শকের ভূমিকায় রয়েছে।

ডিপ টেক বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আগের নীতিমালায় অনেক কোম্পানি এখনও বাণিজ্যিক পণ্য বাজারে আনার আগেই স্টার্টআপ মর্যাদা হারাত, যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক সংকেত তৈরি করত। নতুন কাঠামো সেই ‘কৃত্রিম চাপ’ দূর করবে এবং অর্থায়ন ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করা সহজ করবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ের পর বড় অঙ্কের অর্থায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সিরিজ-এ ও পরবর্তী ধাপে মূলধন সংগ্রহে ঘাটতি রয়েছে। এই জায়গাতেই আরডিআই ফান্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি অর্থ ভেঞ্চার ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ হলে, বেসরকারি বিনিয়োগের বাণিজ্যিক মানদণ্ডও অক্ষুণ্ন থাকবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনো বৈশ্বিক ডিপ টেক বাজারে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ছোট। এ পর্যন্ত ভারতীয় ডিপ টেক স্টার্টআপগুলো মোট ৮.৫৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গতি ফিরেছে। ২০২৫ সালে এ খাতে বিনিয়োগ দাঁড়ায় ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা, উন্নত উৎপাদন, জলবায়ু প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত মিলছে। যদিও একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিপ টেক খাতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ১৪৭ বিলিয়ন ডলার এবং চীনে ৮১ বিলিয়ন ডলার—যা ভারতের তুলনায় অনেক বেশি।

তবুও বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, নীতিগত স্থিতিশীলতার এই বার্তা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। দীর্ঘ সময় ধরে একই নীতির আওতায় কাজ করার নিশ্চয়তা পেলে ডিপ টেক উদ্যোগগুলো ভারতে থেকেই বড় হওয়ার সাহস পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী এক দশকে যদি ভারত থেকে অন্তত কয়েকটি ডিপ টেক কোম্পানি বিশ্ববাজারে টেকসই সাফল্য অর্জন করতে পারে, সেটিই হবে এই নীতিগত পরিবর্তনের প্রকৃত সাফল্যের মানদণ্ড।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন