- ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তথাকথিত ‘জান্নাতের টিকিট’ আর দেশের কোথাও কোনো কাজে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ধর্মীয় পোশাক ও লেবাসের আড়ালে নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এই দলটিকে ইসলামি দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা আর কখনোই সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক তীব্র আক্রমণাত্মক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জামায়াত নেতৃত্বের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন বিতর্কিত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে যে দলের অগণিত নেতার পরকীয়ার খবর উঠে আসে, যারা রোজা আর পূজাকে একই মুদ্রার দুই পিঠ মনে করে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক নিয়ে সুবিধাবাদী রাজনীতি করে তাদের নৈতিক ভিত্তি এখন চরম সংকটে।
পোস্টে আইন ও কূটনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও লেখেন, শহীদ আবরার ফাহাদের বুয়েট হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত আসামিদের পক্ষে লড়েছে যাদের আইনজীবী, আর যারা দিনের বেলা ভারতের নীতি-কৌশলের প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে রাতের অন্ধকারে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠকে বসে তাদের দ্বিমুখী চরিত্র দেশের মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের একটি মন্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, খতিব সাহেব স্পষ্ট করেই বলেছিলেন যে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলে মানুষ পথভ্রষ্ট হবে। সেটির সূত্র ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, নিজ দলের নেতাকর্মীদেরই যারা সঠিক পথ দেখাতে ব্যর্থ, তারা সাধারণ মানুষকে কী হেদায়েতের পথ দেখাবে? মানুষ আর তাদের দেখানো তথাকথিত পথে হেঁটে ‘দাজ্জালের জান্নাতে’ পা বাড়াতে প্রস্তুত নয়।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন জামায়াতের ওপর আরও খোঁচা দিয়ে বলেন, দলের কয়েকজন বক্তাকে দিয়ে ওয়াজের ময়দানে খতিবের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথা বলিয়ে নিজেদের সমর্থকদের উত্তেজিত করা গেলেও মূল সত্য ঢাকা পড়বে না। এমনকি বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ‘আমরা তো ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন বাস্তবায়নের কথা বলিনি’—এমন অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দলকে আর যা-ই হোক, ইসলামি ধারার রাজনীতি বলা চলে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।