- ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চাঁদপুর
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন সুনিশ্চিত করতে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের বিশেষ নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইন অমান্য করে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে চাঁদপুর সীমানায় ইলিশ শিকারের অপরাধে ৬৪৬ জন জেলেকে আটক করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ এবং নৌ পুলিশের যৌথ টাস্কফোর্স।
জেলা মৎস্য কার্যালয় ও চাঁদপুর নৌ থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার অঞ্চলে সব ধরনের মৎস্য আহরণ, পরিবহণ, মজুত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও নৌ পুলিশ একযোগে নদীজুড়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখে।
টাস্কফোর্সের ২৩৮টি যৌথ অভিযানে ১৮৩ জন জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ৭২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান ও মোট ৩ লাখ ৯৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, এই অভিযানে ২ দশমিক ৭৫৩ টন ইলিশ এবং ২ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যমানের ১২ লাখ ১ হাজার ৯৯ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মৎস্য বিভাগ ১৬১টি মামলা দায়ের করেছে।
অন্যদিকে, নদীপথে নৌ পুলিশের পরিচালিত পৃথক অভিযানে আটক হয় ৪৬৩ জন জেলে। আটককৃতদের মধ্যে ১২০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের স্ব-স্ব অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমগীর হোসেন জানান, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে, যার প্রেক্ষিতে আলাদা দুটিসহ মোট ১৩২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নৌ পুলিশের অভিযানে জব্দ করা ১ দশমিক ৩২০ টন ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া আলামত হিসেবে ৩০ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৫ মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৭৭টি মাছ ধরার নৌকা বাজেয়াপ্ত রাখা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে মেঘনা ও পদ্মার বুকে আবারো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে নদীতে নেমেছেন চাঁদপুরের নিবন্ধিত প্রায় ৪৪ হাজার জেলে। জীবন-জীবিকার লড়াইয়ের পাশাপাশি ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।