- ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিল থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ইউপি সদস্যকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তোতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম তোতা রায়গঞ্জ থানা শ্রমিক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং সোনাখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ। ওই প্রকল্পের বিল থেকে সিরাজুল ইসলাম তোতা ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সরোয়ারের অভিযোগ, দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সোমবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে গিয়ে তোতা তাঁকে গালাগাল করেন। এর প্রতিবাদ জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে টাকা দাবি করেন এবং একপর্যায়ে কিল-ঘুষিসহ এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও তাঁকে ধাক্কা দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, নিজের অর্থ ব্যয় করে তিনি প্রকল্পের কাজ শেষ করেছেন। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা না দেওয়ায় বিলের চেক পাচ্ছেন না বলে তাঁর অভিযোগ। পরিষদের সচিব চেক প্রস্তুত করে রাখলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি টাকা না দেওয়া পর্যন্ত চেক না দিতে বলে রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারও দাবি করেছেন সরোয়ার।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরাজুল ইসলাম তোতা। তাঁর ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি সদস্যের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা সমাধানের দায়িত্ব স্থানীয় বিএনপির নেতারা নিয়েছেন। বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার। তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি তাঁর সামনেই ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।