Wednesday, October 28, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্য বাড়াতে আমিরাতের সঙ্গে কানাডার বড় চুক্তি


ছবিঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ২০২৫ সালের নভেম্বরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে স্বাগত জানান (সংগৃহীত । আল জাজিরা /রায়ান কার্টার/ইউএই প্রেসিডেন্সিয়াল কোর্ট/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে কানাডা। নতুন এ চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে শুল্ক কমানো, ব্যবসায়িক বাধা দূর করা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিইপিএ)। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে কানাডার ইউএইতে রপ্তানি করা বর্তমান পণ্যের ৯৯ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক কমবে অথবা পুরোপুরি উঠে যাবে বলে জানিয়েছে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডা বিকল্প বাজার খুঁজছে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কানাডার বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে কাজ করছে অটোয়া।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন চুক্তির ফলে দেশটির কৃষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাগুলো ইউএইর বাজারে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে ডালজাতীয় শস্য ও ক্যানোলা উৎপাদক, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক ও উড়োজাহাজশিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হতে পারে।

শুধু শুল্ক কমানো নয়, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অশুল্ক বাধা দূর করা এবং বিনিয়োগের জন্য আরও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির বিষয়ও চুক্তিতে গুরুত্ব পেয়েছে। শিল্প, কৃষি, বনজ সম্পদ, মৎস্য, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশ ও প্রকৌশল খাতের পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে কানাডা। চুক্তিটি ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি জ্বালানি, কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশ কয়েকটি প্রাথমিক সমঝোতাও করেছে। ইউএইর বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী থানি বিন আহমেদ আল জাইউদি বলেন, বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং দ্রুত বিকাশমান খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তিনি যোগাযোগ, সরবরাহব্যবস্থা, উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ ইউএইর অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সহায়তা করবে। কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধুর সঙ্গে তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে কানাডার রপ্তানি বাজারগুলোর মধ্যে ইউএই সবচেয়ে বড়। দেশটি কানাডা থেকে মোটরযান, যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও শিল্পকারখানার সরঞ্জাম আমদানি করে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি কানাডীয় ডলার, যা প্রায় ২৪৮ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। গত কয়েক বছরে দুই দেশের বাণিজ্য বছরে গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

এদিকে, গত বছর কানাডায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইউএই। নতুন বাণিজ্য চুক্তির ফলে সেই বিনিয়োগের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউএইর সঙ্গে কানাডার এ চুক্তি দেশটির বাজার সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহুমুখী করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন