Wednesday, October 28, 2026

সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে চান না নেতানিয়াহু


ছবিঃ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে পশ্চিম জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কথা বলছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা /ওহাদ জুইগেনবার্গ/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডানপন্থী সরকার গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে এমন আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পশ্চিম জেরুজালেমে নিজের দল লিকুদের নির্বাচনী কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সে সময় নির্বাচনের প্রাথমিক ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছিল।

নির্বাচনের ৭০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর পূর্বাভাসে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা ৪৭ হতে পারে। ফলে কোনো পক্ষের জন্যই সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২ ও ১৩-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির আসনসংখ্যা হতে পারে ২১। এতে অন্য দলগুলোর তুলনায় লিকুদ এগিয়ে থাকলেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো অবস্থানে নেই দলটি।

নেতানিয়াহু অবশ্য চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে আরও এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করার কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, লিকুদই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।

বক্তব্যে নিজের বর্তমান মেয়াদে ২০২২ সাল থেকে নেওয়া বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপের সাফল্য তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যা, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্য, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ফলে দেশটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল হয়েছে এবং ইসরায়েল আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। তবে এসব বক্তব্য তাঁর নিজের মূল্যায়ন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানের হুমকি স্থায়ীভাবে দূর করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের জন্য একাধিক দলের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক ও নিউইয়র্কে দেশটির সাবেক কনসাল জেনারেল অ্যালন পিঙ্কাসের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য কোনো দলকে এমন রাজনৈতিক সমঝোতা করতে হতে পারে, যা তাদের সমর্থকদের কাছে অস্বস্তিকর মনে হবে।

তবে নেতানিয়াহুবিরোধী ভোটাররা তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সমঝোতা মেনে নিতে চাইবেন না বলেও মনে করেন তিনি।

আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, নির্বাচনী পূর্বাভাসে প্রত্যাশিত ফল না আসার পরও নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে পরিস্থিতিকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, লিকুদ সবচেয়ে বড় দল হলেও সেটি নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের সক্ষমতা নিশ্চিত করে না। বরং ২০০৯ সালের পর দলটির জন্য এটি সবচেয়ে দুর্বল নির্বাচনী অবস্থান হতে পারে।

আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড্যান পেরিও বলেন, নির্বাচনের প্রাথমিক পূর্বাভাস প্রকাশের পর নেতানিয়াহু পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

সব মিলিয়ে, লিকুদ অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত। চূড়ান্ত ফলাফল ও সম্ভাব্য জোটের আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন