- ১০ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
কম্বোডিয়ার প্রেহ ভিহিয়ার ও সিয়েম রিয়াপ প্রদেশে থাইল্যান্ড সীমান্তে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাবে হাজার হাজার মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। যুদ্ধের পর বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য হয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদের শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে।
স্থানীয় একটি বৌদ্ধ প্যাগোডার প্রাঙ্গণে স্থাপিত ত্রিপল-শিবিরে বসবাস করছে ১১ বছর বয়সী সোখনা ও তার পরিবার। প্রতিদিন সকাল থেকেই তাকে পানি আনা, বাসন ধোয়া ও আশ্রয়স্থলের চারপাশ পরিষ্কার করার মতো কাজ করতে হয়। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর সে ও তার বোন আর স্কুলে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছেন তাদের মা পুথ রীন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর কম্বোডিয়ায় ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ এখনও অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছে, যাদের মধ্যে সাড়ে ১১ হাজারের বেশি শিশু। অনিশ্চিত পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার চাপের কারণে অনেক শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় থাই ও কম্বোডিয়ান বাহিনীর অবস্থানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। অনেক গ্রামে কনটেইনার ও কাঁটাতার দিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছে না।
কৃষক ও বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা বলছেন, তারা এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। যাদের কিছুটা সুযোগ আছে, তারা সরকারি সহায়তায় অস্থায়ী কাঠের ঘরে স্থানান্তরিত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, স্কুলে যাতায়াতের অসুবিধা এবং মানসিক চাপের কারণে শিশুদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। অনেক শিশু গুজব ও নিরাপত্তাহীনতার ভয়েও মনোযোগ হারাচ্ছে।
এক স্থানীয় মা জানান, সীমান্তে থাকা সেনা সদস্যদের নিয়ে সন্তানদের মধ্যে প্রতিনিয়ত উদ্বেগ কাজ করছে, যা তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
গ্রাম পর্যায়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, নিজের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও অনেকে সেখানে ফিরতে পারছেন না, কারণ এলাকাগুলো এখনও সামরিকভাবে সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তুচ্যুত মানুষদের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।