Monday, October 19, 2026

বেতন সংকটে দিশেহারা ইয়েমেনের সরকারি সেনারা


ছবিঃ আরব সাগরের বন্দর নগরী মুকাল্লায় একটি পিক-আপ ট্রাকের পেছনে চড়ে যাচ্ছেন সরকারি সৈন্যরা (সংগৃহীত । রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এবার চরম বেতন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা। নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় অনেক সেনাসদস্য ঋণ করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনই নয়, সামরিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলাও চাপে পড়ছে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইয়েমেনের মারিব শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্য সুলেইমান আল-হাজ্জ প্রতিদিনের মতো আবারও ফোনে ধার-দেনার চেষ্টা করছেন। কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার চালানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সহকর্মীদের অনেকের অবস্থাও একই রকম।

সামরিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অধীনে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার সেনাসদস্য রয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন। বাকিরা বিভিন্ন সহায়ক ও নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত।

বর্তমানে একজন ইয়েমেনি সেনাসদস্য মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত বেতন পান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তুলনামূলক খুবই কম। অনেক সেনা কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, গত ডিসেম্বরের পর থেকে তাঁরা আর কোনো বেতন পাননি। সরকার ঈদুল আজহার আগেই বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১৪ সাল থেকে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ক্রমাগত চাপের মুখে রয়েছে। রাজধানী সানা হারানোর পর সরকারকে এডেনে স্থানান্তর হতে হয়। যুদ্ধের কারণে দুই পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজস্বের উৎসগুলো ধ্বংস বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও জনসেবা পরিচালনায় সংকট তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, সরকার-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এমন কিছু আধাসামরিক গোষ্ঠী রয়েছে, যারা প্রতিরক্ষা বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়। এসব বাহিনীর সদস্যরা তুলনামূলক বেশি বেতন এবং নিয়মিত অর্থপ্রাপ্তির সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে অনেকে সরকারি সেনাবাহিনী ছেড়ে এসব বাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া থাকলে সেনাদের মনোবল ও শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ সেনাসদস্য হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপে অনেকে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। উচ্চ বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি ও স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। সেনাসদস্যদের বেতন বন্ধ থাকায় মারিব, এডেন ও তায়িজের মতো শহরের স্থানীয় বাজার ও ব্যবসাতেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।

সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, অর্থসংকট, রাজস্ব ঘাটতি এবং বেতন বিতরণে জটিলতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন