Thursday, May 21, 2026

তেলাপোকা মন্তব্য থেকে জন্ম নিল অনলাইন রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’


প্রতীকী ছবিঃ ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ এখন রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে অনলাইনে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্ম অল্প সময়েই লাখো তরুণের আগ্রহ কাড়ছে।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপক নামের এক তরুণ, যিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন। মজার ছলে করা একটি সামাজিকমাধ্যম পোস্ট থেকেই এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে কিছু বেকার তরুণ ও তথাকথিত ‘অ্যাক্টিভিস্ট’দের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কিছু মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অকারণে আক্রমণ করছে।

এই মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তরুণদের একাংশ এটিকে অপমানজনক বলে আখ্যা দেয়। পরে সমালোচনার মুখে বিচারপতি সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি দেশের সব তরুণকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেননি; বরং ভুয়া ডিগ্রিধারী কিছু ব্যক্তির প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।

তবে এরই মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। এমন পরিস্থিতিতে অভিজিৎ সামাজিকমাধ্যম এক্সে লেখেন, “সব তেলাপোকা যদি একজোট হয়, তাহলে কেমন হয়?”—এই মন্তব্য থেকেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

পরবর্তীতে দলটির নামে ওয়েবসাইট, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। নামটি ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির নামের সঙ্গে মিল রেখে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তৈরি করা হয়েছে।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে দলটির অনুসারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছে যায়। অনলাইন ফর্ম পূরণ করে লাখো মানুষ সদস্যপদও নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সদস্যদের মধ্যে রাজনীতিক, সাবেক আমলা ও তরুণ পেশাজীবীরাও রয়েছেন।

দলটির ঘোষিত পরিচয়ে নিজেদের বলা হয়েছে “অলস ও বেকার তেলাপোকাদের ইউনিয়ন”। তাদের মূলমন্ত্র—“তরুণদের দ্বারা, তরুণদের জন্য, ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও অলস রাজনৈতিক মঞ্চ।”

দলটির ইশতেহারে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, কর্পোরেট গণমাধ্যম ও বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় নানা বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতে বর্তমানে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক হতাশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ মূলত সেই ক্ষোভ ও হতাশার প্রতীক হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে।

অধিকারকর্মী ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, তরুণদের নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্য মানুষের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, ব্যঙ্গাত্মক হলেও এই উদ্যোগ সমাজের একটি বাস্তব সংকটের প্রতিফলন।

অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, প্রথমে বিষয়টি মজা হিসেবে শুরু হলেও এখন এটি অনেক বড় সামাজিক প্রতিক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চুপ ছিল। এখন তারা প্রশ্ন করতে শুরু করেছে এবং জবাবদিহি চাইছে।”

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন