- ২১ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) না থাকায় পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট বা বিট লবণের একটি চালান খালাসে অনুমতি দেয়নি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র না পাওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্দরে আটকে রয়েছে চালানটি।
কাস্টমস সূত্র জানায়, পাকিস্তানের ‘পিক মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে চালানটি আমদানি করেছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবায়ের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’। গত ৪ মে চালান খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় এনওসি না থাকায় তা আটকে যায়।
জাতীয় লবণনীতি-২০২২ অনুযায়ী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বা প্রাপ্যতা সনদ ছাড়া লবণ আমদানির অনুমতি নেই। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ক্রুড লবণ আমদানিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। স্থানীয় লবণ শিল্পকে সুরক্ষা দিতেই এ নীতি কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চালানটিতে ১ হাজার ১২০টি ব্যাগে মোট ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট রয়েছে। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যটির ইনভয়েস মূল্য ৬ হাজার ৪৪০ মার্কিন ডলার। এ চালানের বিপরীতে শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকার রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, আগে কিছু ক্ষেত্রে ইমপোর্ট পারমিটের ভিত্তিতে এসব পণ্য শিল্পকারখানার কাঁচামাল হিসেবে ছাড় দেওয়া হলেও গত ২৩ এপ্রিল থেকে নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো লবণের চালান খালাস করা হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তৌহিদা ইসলাম বলেন, জাতীয় লবণনীতি অনুসারে সোডিয়াম ক্লোরাইড বা এ ধরনের লবণ আমদানিতে এনওসি বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী চালান ছাড় দেওয়া হবে।
এদিকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কাস্টমসের শর্ত পূরণে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশে রক সল্ট বা বিট লবণ খাদ্যশিল্প, আচার ও মসলা প্রস্তুত, হারবাল ও ইউনানি ওষুধ, কসমেটিকস এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা হয়। ‘হিমালয়ান পিংক সল্ট’ নামে পরিচিত এই লবণ স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছেও জনপ্রিয়।
তবে দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন থাকায় স্থানীয় শিল্প রক্ষায় সরকার এ ধরনের আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বর্তমানে রক সল্ট আমদানিতে উচ্চ হারে শুল্কও কার্যকর রয়েছে।