- ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন অভিযান এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)–এর কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে শুক্রবার এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভের দিন শহরের তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আয়োজকদের দাবি, এদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেন, যদিও এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে অনেক বিক্ষোভকারী মিনিয়াপোলিসের টার্গেট সেন্টারে জড়ো হন, যেখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা রয়েছে।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা জানান, ‘আইস আউট’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিনেসোটার বিভিন্ন এলাকায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দিনভর বন্ধ রাখা হয়। এ কর্মসূচিকে সাধারণ ধর্মঘট হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আয়োজকেরা। অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আইস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়ভাবে প্রতিবেদন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক বলেন, প্রচণ্ড ঠান্ডা সত্ত্বেও দোকানপাট বন্ধ রেখে মানুষ রাস্তায় নেমেছে একটাই বার্তা দিতে আইসকে মিনেসোটা ছাড়তে হবে।
এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিনিয়াপোলিস সফর করেন। তিনি আইস কর্মকর্তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের আটক করা সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় নেতাদের উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে মিনিয়াপোলিস–সেন্ট পল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেন ধর্মীয় নেতারা। সড়কে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা ও ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের সময় পুলিশের নির্দেশ অমান্য করায় প্রায় শতাধিক ধর্মযাজককে আটক করা হয়। কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই তাঁদের গ্রেপ্তার করে বাসে তুলে নেয় পুলিশ।
আয়োজকদের দাবি, চলতি মাসে আইসের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিক রেনি গুডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মিনেসোটায় মোতায়েন করা তিন হাজার ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
‘ফেইথ ইন মিনেসোটা’ নামের একটি নাগরিক সংগঠন জানায়, বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার কিছু কর্মীকেও কর্মস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। তারা এ ঘটনায় বিমান সংস্থাগুলোর নীরব ভূমিকার সমালোচনা করে আইস অভিযানের অবসান দাবি করেছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে আদিবাসী, শ্রমিক ও ধর্মীয় নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের একজন বলেন, মিনেসোটায় আইসের উপস্থিতিকে কার্যত একটি ফেডারেল দখল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ফেডারেল বাহিনীর আগ্রাসী ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এ বিষয়ে মিনেসোটাভিত্তিক বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।