- ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে “ফিলিস্তিনি জনগণের ভূমি দখলের প্রক্রিয়া” আখ্যা দিয়ে তা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্থায়ী প্রতিনিধি রিয়াদ মনসুর। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আরব ও মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মনসুর অভিযোগ করেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং কার্যত দখলকে স্থায়ী করার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছে এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর উচিত ইসরায়েলকে এসব সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখা।
রোববার ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এমন কিছু ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য পশ্চিম তীরে জমি অধিগ্রহণ ও সরাসরি সম্পত্তি কেনা সহজ হবে। পাশাপাশি সেখানে সামরিক নিয়ন্ত্রণও আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তি তার নিজস্ব বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে অধিকৃত ভূখণ্ডে স্থানান্তর করতে পারে না। জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাবে ইসরায়েলের দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে রায় দেয়।
ইসরায়েলের জ্বালানি ও অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের এই পদক্ষেপ কার্যত সেখানে ইসরায়েলের সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সমতুল্য। সমালোচকেরা বলছেন, এর লক্ষ্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করা।
বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানালেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়নি। তবে মনসুর বলেন, ফিলিস্তিন একা নয়; আরব, মুসলিম ও অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশ তাদের সমর্থনে এগিয়ে আসছে।
এদিকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর পক্ষ থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আহমেত ইয়িলদিজ এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও বসতি সম্প্রসারণের চেষ্টা আঞ্চলিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতাকে আরও উসকে দেবে।
ইসরায়েলের এই উদ্যোগ এমন সময় সামনে এলো, যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে পশ্চিম তীর আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্তির বিরোধিতা করলেও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীর ইস্যু আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে।