- ১২ জুলাই, ২০২৬
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর, দোকানপাট ও স্থানীয় সড়ক। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো বাসিন্দা।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার হরিনহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙা মসজিদ, খাজার ডেক, আনসার একাডেমি, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, নিশ্চিতপুর, হাবিবপুর, রূপনগর, কলাবাধা, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, মাইওয়ান, দিঘীরপাড় বটতলা ও পূর্ব চান্দ্রাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষকে হেঁটে কিংবা বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ ও হরিনহাটি এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও জলাশয় ভরাট, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত হওয়া এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাদের দাবি, বিশেষ করে বিশ্বাসপাড়া, হরিনহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশনের খালগুলো দখল ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের চলাচল যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ড্রেন পরিষ্কার, খালের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা কমাতে খাল পুনঃখনন ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নিলে প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্তি মিলবে।