- ১২ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বান্দরবান
টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও একের পর এক পাহাড়ধসে বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। রোববার (১২ জুলাই) টানা চতুর্থ দিনের মতো জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার সাতটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্র জানায়, ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নদী-খাল উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একাধিক স্থানে পাহাড়ধস। কোথাও সড়কের ওপর মাটি নেমে এসেছে, আবার কোথাও বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কথা জানিয়েছে। দিনমজুর, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জেলা শহরেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাজারে মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, বাইরে থেকে পণ্যবাহী যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রুমা ও থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর উজান এলাকায় সকাল থেকেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিকেলের দিকে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জেলাজুড়ে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে এবং একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তবে দুর্গত মানুষের প্রত্যাশা, শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, দ্রুত সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন, পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।